পরীমনি-কাণ্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি গোলাম সাকলাইন: ঘটনার নেপথ্য ও বর্তমান অবস্থা
আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও পেশাগত অনাচারের অভিযোগে পুলিশ প্রশাসন থেকে চাকরি হারিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলাইন শিমুল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ ও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির আদেশে তাঁকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালের জুন মাসে সাভারের উত্তরা বোট ক্লাবে নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। সেই মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন ডিবির গুলশান বিভাগের এডিসি গোলাম সাকলাইন। তদন্ত চলাকালেই দুজনের পরিচয় হয় এবং তা দ্রুত ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়।
ঘটনার মোড় ঘোরে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট, যখন পরীমনিকে তাঁর রাজারবাগের বাসা থেকে মাদক মামলায় গ্রেফতার করে র্যাব। পরবর্তীতে তদন্তে সাকলাইনের সরকারি বাসভবন (রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন)-এর সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পায়। ফুটেজে দেখা যায়, সাকলাইনের অনুপস্থিতিতে ও উপস্থিতিতে পরীমনি একাধিকবার তাঁর বাসায় গেছেন এবং দীর্ঘ সময় (প্রায় ১৮ ঘণ্টা) অবস্থান করেছেন।
এছাড়া, সাকলাইনের জন্মদিনে পরীমনির সঙ্গে কেক কাটা ও কেক খাইয়ে দেওয়ার অন্তরঙ্গ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পরই সাকলাইনকে ডিবির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম)-এ বদলি করা হয়। পরে পুলিশ সদর দফতর থেকে গঠন করা হয় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব ও সরকারি চাকরি হারানোর পর গোলাম সাকলাইন সম্পূর্ণ সাধারণ জীবনে ফিরে গেছেন। বর্তমানে তিনি—
পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকা এক উদীয়মান পুলিশ অফিসারের এই পতন সারা দেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
মন্তব্য করুন